বিস্ফোরণে পুলিশসহ আহত ৫

প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

বিস্ফোরণে পুলিশসহ আহত ৫

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের চার সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে থানার ভেতর এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিরা হলেন পল্লবী থানার পরিদর্শক (অভিযান) ইমরানুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব খান, উপপরিদর্শক (এসআই) রুমি বেভরেজ হায়দায়, শিক্ষানবিশ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অঙ্কুর কুমার ও বেসামরিক ব্যক্তি রিয়াজুল ইসলাম। ইমরানুল ইসলাম ইমরানুল ইসলামের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের চার সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে থানার ভেতর এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিরা হলেন পল্লবী থানার পরিদর্শক (অভিযান) ইমরানুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব খান, উপপরিদর্শক (এসআই) রুমি বেভরেজ হায়দায়, শিক্ষানবিশ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অঙ্কুর কুমার ও বেসামরিক ব্যক্তি রিয়াজুল ইসলাম। ইমরানুল ইসলাম ইমরানুল ইসলামের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী।

ইমরানুল ইসলামের বা পায়ের মাংস থেঁতলে গেছে। বোমা বিস্ফোরণে প্রচণ্ড শব্দের কারণে কানে শুনতে পাচ্ছেন না সজীব খান। অঙ্কুশ কুমার বাঁ চোখে আঘাত পেয়েছেন।
রুমি বেভরেজ হায়দায়ের শরীর ঝলসে গেছে। রিয়াজুল ইসলামের বা হাতের কবজি জখম হয়েছে।

রুমি ও রিয়াজুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইমরানুল ও সজীব ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। অঙ্কুশ কুমার জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ব্লকের আবাসিক সার্জন আলাউদ্দিন জানান, রুমির বাঁ হাতে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। রিয়াজুল ইসলাম হাতে আঘাত আছে। তাঁর শরীরও ঝলসে গেছে। ইমরানুলের পায়ে স্প্লিন্টারের আঘাত ও সজীবের কানে শব্দের আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া অঙ্কুশ কুমার চোখে আঘাত লেগেছে। তাঁকে জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। আহত সবাই আশঙ্কামুক্ত।

ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে পল্লবী থানার পুলিশ পল্লবী-কালশী কবরস্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে তিন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। তাঁদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি গুলি ও একটি ডিজিটাল ওয়েট মেশিনের মতো ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। সেগুলো থানার ডিউটি অফিসারের রুমে রাখা হয়। আজ সকালে ডিজিটাল ওয়েট মেশিনের মতো ডিভাইসটি বিস্ফোরিত হয়। বোমা বিস্ফোরণে থানার দ্বিতীয় তলার একটি ঘরের জানালার কাচ ভেঙে যায়। ডিজিটাল ডিভাইসটির মধ্য বোমা রাখা ছিল। দুটি তাজা বোমা ছিল।

ওয়ালিদ হোসেন জানান ওই তিন ব্যক্তি হলেন, শহীদুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন (২৬) ও রফিকুল ইসলাম। তিন ব্যক্তিকে দুপুরে ডিএমপি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির একটি সূত্রের ভাষ্য, গ্রেপ্তার তিনজন শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত বাহিনীর সহযোগী। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, স্থানীয় এক রাজনীতিককে হত্যার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাদিয়া ফারজানা জানান, বিস্ফোরণের ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে যান।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, এরা জঙ্গি না এরা সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন, বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) জাতীয় কিছু বিস্ফোরিত হয়েছে।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর পল্লবী থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কয়েক ঘণ্টা পর থানায় জিডি বা মামলা নেওয়াসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান পল্লবী থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক আকলিমা খানম।